কোরবানি বলে কথা

আর কয়েকদিন পরেই কোরবানির ঈদ বা ইদ। সেই উপলক্ষে সবাই নিজ দায়িত্তে রাস্তাঘাট, বাজার-মাঠ সর্বত্র ভিড় বাড়িয়ে চলেছে। এমনটা হওয়াই তো স্বাভাবিক। কোরবানির ঈদ বলে কথা। তবে এই ঈদে শপিংমলের চেয়ে গরু-ছাগলের হাটের দিকে মানুষের মনোযোগ থাকে বেশি। যার ফলে এই ঈদে গরু-ছাগল থেকে যোজন যোজন দূরে থাকা মানুষগুলোও হয়ে ওঠে পশু বিশেষজ্ঞ।

যাই হোক কোরবানি নিয়ে যেহেতু কচকচানি শুরু হয়েই গেছে তো একটা গল্প বলি – এক লোকের ছিল একটি ছাগল আর একটি গাধা। ছাগলটার সারাদিনের কাজ ছিল খাওয়া আর আরাম করা অন্যদিকে গাধাটা সারাদিন ধরে বোঝা টানত তার উপরে একটু গড়বর হলে মালিকের মার তো আছেই। তো ছাগলটা একদিন গাধাটাকে ডেকে বলছে – তোকে দেখে আমার বড্ড মায়া হয়, বুঝলি?
কেন? – গাধার প্রশ্ন।
না মানে, তুই সারাদিন এতো পরিশ্রম করিস তার উপরে মার খাস আর আমি সারাদিন কত আরামে থাকি, কোন কাজ নেই শুধু খেয়ে খেয়ে মোটা হচ্ছি।
‘তোকে তো যত্ন করবেই… সামনে তো কোরবানির ঈদ।’

আরেকটা গল্প বলি। আমার এক ফেবু বন্ধু (নাম মনে নাই) এটা লিখেছে তার ওয়ালে। বাবা-ছেলের কথোপকথন –
ছেলে – বাবা কোরবানির গরু কিনবেন না?
বাবা – হ্যাঁ, তাতো কিনতেই হবে; গাধা তো আর কোরবানি দেওয়া যায় না।

Advertisements

সর্বাঙ্গাসন

এই আসনকে সমস্ত আসনের মা বলা হয়। মা যেমন পরিবারের সব কিছুর সামঞ্জস্য রক্ষা করে তেমনি এই আসন সমস্ত শরীরের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করে; তাই এর নাম সর্বাঙ্গাসন।

এই আসনের উপকারিতাঃ
Continue reading →

মৎস্যাসন

এই আসন করার সময় আসনকারীর দেহের আকৃতি হয় মাছের মত তাই এর নাম মৎস্যাসন। এটি দুই ভাবে করা যায়ঃ (১) প্রথাগত বা ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতিতে, (২) এডভান্স পদ্ধতিতে।

মৎস্যাসন উপকারিতাঃ
Continue reading →

গোমুখাসন

যোগ ব্যায়াম শুরু করে দিলাম, কেন দিলাম সেটি এই পোস্টের আলোচনার বিষয় নয়। এই পোস্টটা করছি গোমুখাসন  কিভাবে করতে হয়, কেন করা প্রয়োজন, এটি শরীরের কোন কোন অংশে কাজ করে সে সব তথ্য জমা রাখার জন্য।

এই আসন করার সময় আসনকারীর পায়ের অবস্থান দেখতে গরুর মুখের মত হয় বলে সম্ভবত এর নাম গোমুখাসন।

এই আসনের উপকারিতাঃ
Continue reading →

দিন শেষে একা

লাল রংটা কল্যাণের বেজায় অপছন্দ। কিন্তু আজ এই রঙটাই ওকে দেখতে হবে অনেকক্ষণ। তারপর…

হাতের ঘড়িটা একবার দেখেনিল কল্যাণ। তিনটা বেজে ছাব্বিশ। অনেক রাত। কিন্তু মোড়ের সিগারেটের দোকানটা এখনো খোলা। সারারাতই খোলা থাকে। খুব ইচ্ছে হচ্ছে গিয়ে একটা সিগারেট খেতে কিন্তু উপায় নেই, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। এঘড়ে কোন ছাতা নেই। এত রাতে মায়ের রুমে গিয়ে ছাতা নিয়ে আসার প্রশ্নই আসে না। অগত্তা সিগারেটের চিন্তাটা বাদ দিতে হল।
চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে ও। ভাবছে – এখনই শুরু করবে কি না। ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল বুক চিড়ে। কত রঙিন মনে হত একসময় জীবনটাকে। মনে হত যত সমস্যা সব বড় হলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না বড় হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে সমস্যাগুলোও আরও বড় হয়েছে। ও কাওকে বুঝতে দেয়না, দীর্ঘশ্বাসগুলো চাপা দিয়ে দেয় বুকের মধ্যে। মাঝে মাঝেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় কিন্তু কাওকে বলে না।
একটা সময় খুব একাকীত্বে ভুগতো ও। খুব একা একা লাগত; খুব। তারপর নিজেই একসময় আবিষ্কার করল – একাকীত্ব আসলে দুর্বলতা নয় শক্তি, a source of energy. কারন? কারনটা খুব সহজ। একা মানুষের হারানোর ভয় থাকে না। এমন নয় যে ওর পৃথিবীতে কেউ নেই। আছে সবাই আছে – বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয় সবাই। কিন্তু এত মানুষের মাঝেও ও একা, বড় একা। মা ভাত বেড়ে খাওয়ায়, বাবা ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে, বোনের আদুরে শাসন, ভাইয়ের বায়না সবই ভালো লাগে তবুও কোথাও যেন একটা শূন্যতা, একটা ফাঁকা রয়ে গেছে যার ফলে জীবনটাকে বড় অর্থহীন লাগে। একবার ভেবেছিল বিয়ে করে ফেলবে অথবা একটা প্রেম। কিন্তু পরে ভেবে দেখল এতে ঝামেলা আরও বাড়বে। এতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা একজন বাড়া ছাড়া আর তেমন কোন লাভ হবে না। বরং একাকীত্বের এই যে উপভোগটুকু, এটাও আর থাকবে না। একাকীত্বই হয়তো ওর নিয়তি।
যাইহোক ওসব চিন্তা বাদ। এখন শুধুই মুক্তির চিন্তা। মুক্তি কেন? কারন এই একাকীত্বও আর ও উপভোগ করতে পারবে না খুব বেশি দিন, এটাও ওর কাছে খুব বোরিং লাগতে শুরু করেছে। ও বুঝে গেছে – একাকীত্বের দীর্ঘ উপভোগ বলে কিছু হয় না।

শুয়ে থেকেই একবার বালিশ থেকে মাথাটা তুলে দেখে নিল টেবিলের উপর ব্লেড টা আছে কি না। আছে।

সকাল সাড়ে আট টা
‘কল্যাণ, এই কল্যাণ ওঠ অফিস যাবি না?’ মা দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন আর ডাকছেন।
আর একটু পর
কল্যাণের দরজায় বাড়ির সবাই এসে জড়ো হয়েছে। উদ্বিগ্ন প্রতিটা মুখ। মা কাঁদছেন। দরজার নিচে দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে, লাল রক্ত, লাল…

%d bloggers like this: