Category Archives: ইতিহাস

পোতালা প্যালেস

potala-palace-1920

১৯০৪ সাল। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটা ছবি ছাপল তাদের পত্রিকায়। বিশ্ববাসী তাক লেগে গেল সেই ছবি দেখে, শুরু হয়ে গেল হৈচৈ। এই ছবি এই আগে কেউ দেখিনি এমনকি ছবির বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনাও হয়নি কথাও। কি সেই ছবি?

ছবিটি ছিল পোতালা প্যালেস এর। এটি তিব্বতের একটি বহু পুরনো প্রাসাদ। ৫ম দালাই লামা এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন আনুমানিক ১৬১৭ থেকে ১৬৮২ সালের মধ্যে কোন এক সময়। ১৪শ লাদাই লামার ভারতে আসার আগে পর্যন্ত এটি ছিল দালাই লামাদের বসবাসের স্থান। এখান থেকেই সকল দালাই লামাগন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

ইওনেস্ক ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই প্রাসাদটির রয়েছে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গঠন শৈলী যা এখানকার আধ্যাত্মিকতার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এটি অবশ্য জাদুধর।

মানব ইতিহাসে ছাগলের অবদান!

ছাগল। মাংস, দুধ, চামড়া, বাচ্চা-কাচ্চা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে উপকার করছে আমাদের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মানব ইতিহাসে এক বিশাল অবদান রেখেছে এই ছাগল!

৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ। কালদি নামের ইথিওপিয়ার এক ছাগল পালক, প্রতিদিনের মতো সেদিনও গিয়েছেন ছাগল চরাতে। ছাগলগুলোকে চরতে দিয়ে সে চলে গেছে আরাম করতে। দুপুরের দিকে ঘুমিয়েও পরেছিল একটু। বিকেলে জেগে উঠে আবার বাঁশিতে ফুঁ। এবারে সেই সুর, যা সে প্রতিদিনই বাজায় ছাগলের পালকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য। এই সুর শুনেই ছাগলগুলো তার কাছে ফিরে আসে এবং বাড়ির পথ ধরে। কিন্তু সেদিন ছাগলগুলো এলোনা। চিন্তিত হয়ে পড়ল কালদি। খুঁজতে শুরু করল।

একটুক্ষণ খুঁজেই পেয়েগেল ছাগলগুলো। কিন্তু সমস্যা হল, ব্যপক লাফালাফি শুরু করেছে ছাগলগুলো। দেখে বুঝারও উপায় নেই যে দিনভর এগুলো পুরো ভূমিতে চরেবেড়িয়েছে। আজ এদের যেন কোন ক্লান্তিই নেই! ব্যপারটা বুঝার চেষ্টা করল কালদি। খেয়াল করল, ছাগলগুলো ইথিওপিয়ার ঝোপ থেকে এক ধরণের ছোট ছোট লাল ফল খাচ্ছে আর তুমুল উৎসাহে লাফালাফি করে যাচ্ছে। কৌতূহলী হয়ে উঠলো কালদি। দু’তিনটা ফল হাতে তুলে নিল, ঘুড়িয়েফিরিয়ে দেখল। মুখে পুরে দিল। খেয়ে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যপক চাঙ্গা হয়ে উঠলো কালদির শরীর। সে বুঝতে পারলো এটাই তাহলে ছাগলদের উৎসাহী হয়ে উঠার উৎস।

কিছু ফল সংগ্রহ করে ছাগলগুলো নিয়ে কালদি চলে এলো গ্রামে। গ্রামের লোকেদের ঘটনাটা বলল। তারপর সবাই মিলে ফলগুলোকে ফুটিয়ে পানিয় তৈরি করে পান করল। এবারে কাঁচা ফল খাওয়ার থেকেও বেশি উৎফুল্লতা অনুভব হল। ব্যস, শুরু হয়ে গেল কফি খাওয়া।

হ্যাঁ, এতক্ষণ কফি আবিষ্কারের ইতিহাসই বলছিলাম। আর সেই লাল ফলটা হচ্ছে কফি ফল। এই ইতিহাস এখনো ঘুরে বেড়ায় ইথিওপিয়ার মানুষের মুখে মুখে।

ভাবুন একবার, এক পাল ছাগল কিনা আবিষ্কার করে বসল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য যা বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বেশি পানকৃত পানীয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৭০টি দেশে এই ফলের গাছ জন্মে। ২০১০ সালে ৭ মিলিয়ন টন কফি উৎপাদিত হয়েছে সারা পৃথিবীতে। আর হ্যাঁ ভারত, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় কিন্তু আজও ছাগলরা কফি ফল খায়!

টুথব্রাশের ইতিহাস

দ্বিতীয়বার দাঁত পড়ে গেলে বা ফেলে দিলে আর উঠবে না এই ব্যপারটা আমি কোনদিন মেনে নিতে পারিনি। আফসোস। তাই অনেকের মতো দাঁত বাঁচনর চেষ্টা করি বা করতে হয়।

এই দাঁতের মূল্য মানুষ হাজার হাজার বছর আগে থেকেই বুঝতে শুরু করে। সে জন্যেই ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় হাজার-হাজার বছর আগে যাখন টুথব্রাশ আবিষ্কার হয়নি তখন দাঁত পরিষ্কার করতে মানুষ নানান ধরণের খিলাল, গাছের ডাল, মাছের কাঁটা ইত্যাদি ব্যবহার করেছে।
প্রথম গাছের ডাল ব্যবহার করতে দেখা যায় বেবিলনে, যীশু খ্রিষ্টের জন্মের ৩৫০০ বছর আগে। পশুর লোম দিয়ে প্রথম আধুনিক ব্রাশ বানায় চিন। সেও হাজার-বারশ বছর আগের কথা। তারপর ধীরে ধীরে জাপান ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়াতে থাকে আর এর মানোন্নয়ন হতে থাকে। যানা যায় নেপোলিয়ন নাকি ঘোড়ার লোমের তৈরি টুথব্রাশ ব্যবহার করতেন। প্রথম যে বইটিতে টুথব্রাশ ব্যবহারের কথার উল্লেখ পাওয়া যায় সেটি হলো ব্রিটিশ পুরাতত্ত্ববিদ Anthony Wood এর আত্মজীবনীত (প্রকাশ কাল – ১৬৯০ ইং)। টুথপেস্টের ব্যবহার এসেছে আরও পরে।

একটা ঘটনা বলি, একবার আশরাফ আলী থানবী (র.) এর কাছে এসে এক লোক বলল – আমরা যখন জন্মাই তখন আমাদের মুখে দাড়ি থাকে না তাই আমার মতে ওগুলো রাখার প্রয়োজন নেই, কেটে ফেলা উচিৎ।
উত্তরে থানবী (র.) বলেন – আমরা মুখে দাঁত নিয়েও জন্মাই না তাহলে তো ওগুলোও ফেলে দেওয়া উচিৎ।

একটি দাঁত বিষয়ক জোকসঃ
এক লোক দাঁত তুলবে, গেছে ডাক্তারের কাছে। কিন্তু ভুল করে ঢুকে গেছে পাইলসের ডাক্তারের চেম্বারে।
ডাক্তার – উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
রোগী – এতো লম্বা রাস্তা দিয়ে দাঁত তুলবেন?

টিপসঃ মাসে অন্তত একবার টুথব্রাশ ভালমতো গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উচিৎ অথবা পরিবর্তন করা উচিৎ। তুলনামূলকভাবে নরম ব্রাশই দাঁতের জন্য ভালো।

শুভ ব্রাশিং

মায়া সভ্যতা

‘মায়া’ পৃথীবির প্রাচীন সভ্যতা তথা ধর্ম সঙ্ককৃতির মধ্যে অন্যতম । যার সূচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ – ২৫০ অব্দ । এরা মেসোআমেরিকান একটি সভ্যতা । ‘মেসো’ গ্রিক শব্দ যার অর্থ মধ্য আর মেসোআমেরিকা বলতে বুঝায় মধ্য আমেরিকা মূলত মেক্সিকো । মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলোর দক্ষিনে এবং বর্তমান গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাডোর এবং পশ্চীমি হন্ডুরাসে এই সভ্যতা বিস্তার লাভ করে । খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০ – ৯০০ অব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলো নানাদিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে । ৯০০ শতক থেকেই এদের নগর সভ্যতা বিকাশ লাভ করে । উন্নতির শীর্ষে অবস্থানকালে মায়ানদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ ।এই সভ্যতাটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘনবসতি এবং সাংস্কৃতিক ভাবে গতিশীল একটি সমাজ ।

ভৌগলিক বিবরন:
মায়া অঞ্চলকে সাধারনভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. দক্ষিন মায়া উচ্চভূমি: গুয়াতেমালা এবং চাপাস দক্ষিন মায়া উচ্চভূমির অন্তর্ভূক্ত,
২. দক্ষিন বা মধ্য মায় নিচুভূমি: মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলো কাম্পেছ, কুইন্টানা রোও এবং উত্তর গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং এল সালভাডোর দক্ষিন বা মধ্য মায়া নিচুভূমির অন্তর্ভুক্ত,
৩. উত্তর মায়া নিচুভূমি: ইয়ুকাটান উপদ্বীপ এবং পুউক পাহাড়গুলো উত্তর মায়া নিচুভুমির মধ্যে পড়ে ।

ইতিহাস:
খ্রীষ্টপূর্ব ১০ম শতাব্দীর প্রথমদিক থেকে মায়া অঞ্চলে লোক বসবাস শুরু করেছিল । সূচনাটা মূলত গুয়াতেমালাতেই হয়েছিল । তারা শহর ভিত্তিক সাম্রাজ্য গঠন করে এবং বিস্তারও লাভ করেছিল । কৃষির দিক থেকেও এরা তীব্রভাবে বিকশিত ছিল । মায়নরা অন্যান্য মেসোআমেরিকান জাতিদের সাথে বাণিজ্যে অংশগ্রহন করতো । বাণিজ্যের প্রয়োজনে এরা মেক্সিকোর উপসাগরিয় কূল Tainos এর ক্যারিবীয় অঞ্চল পর্যন্তও যেত বলে জানা যায় । মায়ানরা কাকাও, লবণ, সাগর শেল, নানা ধরনের পাথর ও কাচের মত দেখতে কালো রঙের আগ্নেয় শিলার ব্যবসা করত ।

৯ম শতকের দিকে মায়া কেন্দ্রগুলোর দক্ষিনের নিচু ভূমিগুলো বিশেষ করে গুয়েতেমালার মায়া নগরগুলি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এর পেছনের কারণগুলোকে দুইভাগে বিভক্ত করা যায় ।
১. প্রাকৃতিক কারন: অত্যাধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বিদেশী আক্রমন, কৃষকদের বিদ্রোহ এবং বানিজ্য পথের পরিবর্ন বা ভেঙেপড়া,
২. প্রাকৃতিক কারন: পরিবেশ সংক্রান্ত বিপর্যয়, সংক্রামক রোগ, এবং জলবায়ু পরিবর্তন ।
ষোড়শ শতকে মায়নরা স্পেনিশদের দ্বারা আক্রন্ত হয় । তার পর থেকে প্রায় ১৭০ বছর নানা লড়াই আর সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে স্পেনিশদেরকে সস্পুর্ন মায়ান অঞ্চল নিয়ন্ত্রনে নিতে হয়েছে ।

স্থাপত্য:
মায়ানদের স্থাপত্যের মধ্যে ছিল ধর্মিয় সৃতিসৌধ, মন্দির, বসতবাড়ী ইত্যাদি । বাড়ীগুলো মূলত শহরের বাইরেই বেশি হতো কারন মায়ানরা ছিল কৃষি নির্ভর । তারা পিরামিডের মতো দেখতে উপাসনাগৃহ ও উৎসবস্থল তৈরি করেছিল। এগুলো ছিল তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। মায়াদের ৪টি প্রধান কেন্দ্র ও অনেকগুলো ছোট ছোট কেন্দ্র ছিল। প্রধান কেন্দ্রগুলোর একেকটি থেকে দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকায় শাসনকার্য চালানো হত।

শিল্পকর্ম:
অনেকে গবেষক মনে করে থাকেন যে প্রাচীন যুগের শিল্প গুলোর মধ্যে মায়ানদের তৈরি শিল্পকর্গুলো সবচেয়ে সুন্দর । মায়ানদের শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে কারুকাজময় মন্দির, সৃতিসৌধ ও বাড়ীঘড় ।কারুকাজের বিষয়বস্তু – গায়ক, নর্তকী, মায়ান মহিলারা, উৎসবে ধর্মযাজকরা, যুদ্ধ, মুখোস, দেবতা ইত্যাদি ।

গনিত ও জ্যোর্তিশাত্র:
এই দুইটি বিষয়ে মায়ানদের জ্ঞন ছিল অভূতপূর্ব । গণিতে শূন্যের ব্যবহার, পজিশনাল নোটেশন নির্ধারণ করেছিল মায়ারা । তারা ২০ ভিত্তি সংখ্য ও ৫ ভিত্তি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করতো । তারা বিশাল-বিশাল গাণিতিক হিসাব করতে পারতো । জ্যোর্তিশাস্ত্রে সৌর বৎসরের গননা, চন্দ্র ও শুক্র গ্রহের অবস্থান এমনকী সূর্যগ্রহনও আগেভাবে বলে দিতে পারত তারা !

সময়:
সময় নিয়ে মায়ানদের ভাবনা চিন্ত ছিল যথেষ্ট নির্ভুল ও নিয়মিত । অতীতের একটি অপরিবর্তনীয় বিন্দু থেকে মায়ার ইতিহাস গণনা করা হতো । যেমন-খ্রীষ্টান ধর্মের খেত্রে যিশুর জন্ম, গ্রিসের খেত্রে প্রথম অলিম্পিক ইত্যাদি । তাদের বর্ষ পঞ্জিকার একটি নির্দিষ্ট তারিখকে (৩১১৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের) কেন্দ্র হিসেবে ধরে নিয়ে তারা সময়ের হিসেব করতো ।

বর্ষপঞ্জিকা:
K’in হল মায়া বর্ষপঞ্জিকার একটি সময় যা একটি দিনের অনুরুপ, উইনাল হল মাস যা ২০ দিনে সম্পন্ন হতো আর ১৯ উইনালে হতো ১ হাব বা বছর যা ৩৬০ দিন বুঝায় । এর সাথে যুক্ত করা হয় ওয়েব নামক ৫ দিনের একটি মাস যাকে মায়ানরা খুব অমঙ্গলজনক মনে করতো ।মায়ানদের মাসের নাসগুলো হচ্ছে –
১) Pop (মাদুর)
২) Wo (কাল যুক্তাক্ষর)
৩) Sip (লাল যুক্তাক্ষর)
৪) Sotz (বাদুড়)
৫) Sek (?)
৬) Xul (কুকুর)
৭) Yaxk’in (নতুন সূর্য)
৮) Mol (জল)
৯) Ch’en (কাল ঝড়)
১০) Yax (সবুজ ঝড়)
১১) Sak (সাদা ঝড়)
১২) Keh (লাল ঝড়)
১৩) Mak (পরিবেষ্টিত)
১৪) K’ank’in (হলদে সূর্য)
১৫) Muwan (পেঁচা)
১৬) Pax (গাছ লাগানোর সময়)
১৭) K’ayab (কচ্ছপ)
১৮ )Kumk’u (শস্যভান্ডার)
১৯) Wayeb (অমঙ্গলজনক ৫ দিন)

তাছাড়া মায়ানদের ধর্মভিত্তিক বর্ষপঞ্জিকাও (Tzalkin) ছিল । এতে ২০ দিনে হতো ১ মাস, ১৩ মাসে হতো ১ বছর, ৫২ বছরে হতো ১ শতাব্দী । প্রতি ৫২ বছর পর পর ধর্মমাসের এবং সাধারন মাসের একই নামের দিনটিতে মায়ানরা বিপুল আয়োজনে উৎসব পালন করতো তখন নরবলির মাত্রও বৃদ্ধি পেতো ।

লিখনপদ্ধতি:
খ্রীষ্টপূর্ব ২০০-৩০০ শতাব্দীতে মায়ানরা লিখতে শুরু করে । তাদের প্রতিটি চিহ্য বা বর্ন এক একটি শব্দ বা অর্থের প্রকাশ করতো ।
লিখার জন্য ময়ানরা ব্যবহার করতো পশুর চুল বা লোম দ্বারা তৈরি তুলী, পাখির পালক দ্বারা তৈরি কলম । মায়া সমাজের সবাই লিখতে পারতো না তাই লেখকদের একটা গুরুত্বপূর্ন অবস্থান ছিল ।

ধর্ম:
মায়ারা একটি সময়ের চক্র প্রকৃতিতে বিশ্বাস করতো । মায়া ধর্মযাজকদের কাজ ছিল এই চক্রগুলি ব্যাখ্যা করা এবং তাদের সমস্ত বর্ষপঞ্জিকার সংখ্যার সম্পর্কে একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা ।
ধর্মিয় বর্ষপঞ্জিকার শুরু হতো আইমিক্র (Imix) এক দানবের পুজার মাধ্যমে । দেবতাদের মধ্যে ছিল আইক (IK) নামের বায়ু দেবতা, চিচ্ছেন (Chicchans) নামের সর্প দেবতা । এছাড়াও তারা আরো নানা দেব-দেবীতে বিশ্বাস করতো ।
মায়ানরা বিশ্বাস করতো ১৩ জন দেবদেবীর মধ্যে ৬ জন সূর্যকে উদীত করতো আর ৬ জন সূর্যকে নামিয়ে আনতো, ১ জন কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে মধ্য গগনে ধরে রাখতো ।পৃথীবির অন্তঃপুরে জিবালবা (Xibalba) নামক স্থানে মৃতরা বসবাস করতো । ৪ স্তরের সেই স্থানটি ছিল খুব কষ্টের যা পাহারা দিতো ৯ জন দেবদেবী । প্রতি রাতেই সূর্য জাগুয়ারের বেশে অন্ধকার সেই জগৎ অতিক্রম করতো আর চার স্তর অতিক্রম করার পর পূর্ব দিগন্তে উদিত হতো ।
সূর্যোদয়কে মায়ানরা সর্গ দর্শন বলেই মনে করতো । তাই তারা সূর্যেরো আরাধনা করতো ।
তাদের মন্দিরে ব্যপক আয়োজনের সাথে পূজা পালন করা হতো । নিয়মের মধ্যে ছিল – বাধ্যতামূলক উপবাস, যৌনকর্ম হতে বিরত থাকা, গরম জলে স্নান ইত্যাদি । ধর্মমন্দিরে রাজা্-রানী আপন যৌনাঙ্গ অথবা নাসিকা হতে রক্ত উৎসর্গ করতেন । দেবদেবীর সন্তুষ্টির জন্য নানা প্রকার খাদ্য, পশু ও মানুষের হৃদপিন্ড উৎসর্গ করতো ।

কৃষি:
শুরু থেকেই মায়ানরা ছিল কৃষি প্রধান ।নিজেরাই নিজেদের খাদ্যের যোগান দিতো এবং প্রয়োজনে বিনিময় প্রথারো আশ্যয় নিতো । তারা ভুট্রা, সূর্যমুখী বীজ, তুলা ও অন্যান্য ফসল চাস করতো ।

বর্তমানে মায়ানরা:
স্পেনিস আক্রমনের পর থেকেই মায়ানরা ধিরে ধিরে খ্রীষ্ট ধর্মে দিক্ষিত হতে থাকে । মায়ারা আজও আছে। দক্ষিণ মেক্সিাকোয়, গুয়েতেমালায় ও বেলিজে।

আলুনামা

আপনি যদি আলু ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে একটা ধন্যবাদ দিন ইনকাদের। কারণ ওরাই পৃথিবীর প্রথম আলু উৎপাদনকারী জাতি। আরেকটু গোঁড়া থেকে বলি, ধারণা করা হয় ১১০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইনকারা বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্দিজ পর্বতমালার পেরুর উচ্চভূমির দিকে চলে আসে এবং সেখানে “আলু” সহ আরও অন্যান্য কৃষিজ পন্য উৎপাদন করে, লামা পুষে বসবাস শুরু করে।

ইনকারা ছিল আলুর একনিষ্ঠ ভক্ত। ওদের ঝোলে-ঝালে-অম্বলে সবকিছুতেই আলু। হজমের সুবিধার জন্য সব খাবারেই আলু, হাড় ভাংলে আলুর রস, বাতের ওষুধ হিসেবে আলু, সময় পর্যন্ত মাপত আলুর ফলন দেখে (দেখ কাণ্ড!)।

গোড়াপত্তনের তিনশ বছর পরে স্প্যানিশরা লুটপাট শুরু করে ইনকাদের। মানে স্প্যানিশরা পৃথিবীর দ্বিতীয় জাতি যারা আলু চোখে দেখে, স্বাদ নেয় আর চাষবাস করে। ওদের হাত ধরেই আলু পৌঁছে সাড়া ইউরোপে। প্রথম দিকে ভাবা হতো আলু শারীরিক উত্তেজনা বাড়ায়, যদিও পরবর্তীতে আলু তার নিজ গুণেই লোকেদের ভুল ভাঙায়। শুধু যে ভুল ভাঙিয়েই খান্ত হয়েছে তা নয় স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর খাদ্য তালিকাতেও যায়গা করে নিয়েছিল অনায়াসে, স্প্যানিশ সেনাবাহিনী তখন পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে আছে; ব্যস আর কি, আলু সেনাদের ঘাড়ে চেপে ছড়িয়ে গেল পুরো ইউরোপে।

জার্মানির রাজা ফ্রেডরিখ উইলিয়াম আলু খেয়ে এমনই ভক্ত হোল আলুর যে সকল প্রজাদের আদেশ দিল আলু চাষ করে খেতে, না করলে নাক কাটা যাবে! ব্যস জার্মান দখলও শেষ।

প্রথম বার আলু দেখে রানি প্রথম এলিজাবেথের বাবুর্চি ভীষণ ঘাবড়ে গিয়ে আলুর গাছটা রেখে আলুকে আবর্জনা মনে করে ফেলে দিয়েছিল!

উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে – “পৃথিবীর খাদ্য হিসেবে সর্বপ্রথম আলুর নির্দশন ভারতের বাংলায় দেখা যায়। পালযুগের কবি সন্ধ্যাকর নন্দীর (আনুমানিক ১০৮৪-১১৫৫) রামচরিতে বারাহী কন্দের উল্লেখ আছে। এই বারাহী কন্দ হল উচ্চমানের আলু, রতিকান্ত্র ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন “প্রাচীন বাংলার শিলা ও তাম্রলিপিতে সমাজ ও সংস্কৃতি” বইটিতে।” এই তথ্য ঠিক থাকলে বলা যায় বাংলার মানুষজন ইনকাদের কাছাকাছি সময়ে অথবা আগেই আলুর চাষবাস শুরু করে। যদিও এডওয়ার্ড টেরি লিখেছেন – “ব্রিটিশ রাজদূত স্যর টমাস রো’র সম্মানে ১৬৭৫ সালে আসফ খান আজমেঢ়ে যে ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন, তাতে আলু পরিবেশিত হয়েছিল।”

এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য, জাতিসংঘ এফএও-এর রিপোর্ট অনুযায়ী একজন মানুষ প্রতিবছর প্রায় ৩৩ কেজি আলু খায় (আমার বেশি লাগে)।

“জাবতক রহেগা সমোছেমে আলু, ম্যা তেরা রাহুঙ্গা ও মেরে শালু” এই গানটা ছাড়া আলু নিয়ে কি আরও কোন গান আছে?

%d bloggers like this: