মানব ইতিহাসে ছাগলের অবদান!

ছাগল। মাংস, দুধ, চামড়া, বাচ্চা-কাচ্চা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে উপকার করছে আমাদের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মানব ইতিহাসে এক বিশাল অবদান রেখেছে এই ছাগল!

৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ। কালদি নামের ইথিওপিয়ার এক ছাগল পালক, প্রতিদিনের মতো সেদিনও গিয়েছেন ছাগল চরাতে। ছাগলগুলোকে চরতে দিয়ে সে চলে গেছে আরাম করতে। দুপুরের দিকে ঘুমিয়েও পরেছিল একটু। বিকেলে জেগে উঠে আবার বাঁশিতে ফুঁ। এবারে সেই সুর, যা সে প্রতিদিনই বাজায় ছাগলের পালকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য। এই সুর শুনেই ছাগলগুলো তার কাছে ফিরে আসে এবং বাড়ির পথ ধরে। কিন্তু সেদিন ছাগলগুলো এলোনা। চিন্তিত হয়ে পড়ল কালদি। খুঁজতে শুরু করল।

একটুক্ষণ খুঁজেই পেয়েগেল ছাগলগুলো। কিন্তু সমস্যা হল, ব্যপক লাফালাফি শুরু করেছে ছাগলগুলো। দেখে বুঝারও উপায় নেই যে দিনভর এগুলো পুরো ভূমিতে চরেবেড়িয়েছে। আজ এদের যেন কোন ক্লান্তিই নেই! ব্যপারটা বুঝার চেষ্টা করল কালদি। খেয়াল করল, ছাগলগুলো ইথিওপিয়ার ঝোপ থেকে এক ধরণের ছোট ছোট লাল ফল খাচ্ছে আর তুমুল উৎসাহে লাফালাফি করে যাচ্ছে। কৌতূহলী হয়ে উঠলো কালদি। দু’তিনটা ফল হাতে তুলে নিল, ঘুড়িয়েফিরিয়ে দেখল। মুখে পুরে দিল। খেয়ে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যপক চাঙ্গা হয়ে উঠলো কালদির শরীর। সে বুঝতে পারলো এটাই তাহলে ছাগলদের উৎসাহী হয়ে উঠার উৎস।

কিছু ফল সংগ্রহ করে ছাগলগুলো নিয়ে কালদি চলে এলো গ্রামে। গ্রামের লোকেদের ঘটনাটা বলল। তারপর সবাই মিলে ফলগুলোকে ফুটিয়ে পানিয় তৈরি করে পান করল। এবারে কাঁচা ফল খাওয়ার থেকেও বেশি উৎফুল্লতা অনুভব হল। ব্যস, শুরু হয়ে গেল কফি খাওয়া।

হ্যাঁ, এতক্ষণ কফি আবিষ্কারের ইতিহাসই বলছিলাম। আর সেই লাল ফলটা হচ্ছে কফি ফল। এই ইতিহাস এখনো ঘুরে বেড়ায় ইথিওপিয়ার মানুষের মুখে মুখে।

ভাবুন একবার, এক পাল ছাগল কিনা আবিষ্কার করে বসল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য যা বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বেশি পানকৃত পানীয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৭০টি দেশে এই ফলের গাছ জন্মে। ২০১০ সালে ৭ মিলিয়ন টন কফি উৎপাদিত হয়েছে সারা পৃথিবীতে। আর হ্যাঁ ভারত, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় কিন্তু আজও ছাগলরা কফি ফল খায়!

লেনিন- স্ট্যালিনের প্রথম আড্ডা

http://www.sachalayatan.com/tareqanu/50080